কোন কোন আহলে কিতাব এমনও রয়েছে, তোমরা যদি তাদের কাছে বহু ধন-সম্পদ আমানত রাখ, তাহলেও তা তোমাদের যথারীতি পরিশোধ করবে। আর তোদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছে যারা একটি দীনার গচ্ছিত রাখলেও ফেরত দেবে না-যে পর্যন্ত না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়াতে পারবে। এটা এজন্য যে, তারা বলে রেখেছে যে, উম্মীদের অধিকার বিনষ্ট করাতে আমাদের কোন পাপ নেই। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে শুনেই মিথ্যা বলে। (৭৫)
তাফসির
৭৫ ঐশীগ্রন্থধারীদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যে, তার কাছে বিপুল সম্পদ আমানত রাখলেও (চাওয়া মাত্র) সে ফেরৎ দেবে। পক্ষান্তরে তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার নিকট একটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা)ও আমানত রাখলে তার পিছনে লেগে না থাকলে সে ফেরৎ দেবে না। কারণ, তারা বলে যে, ‘এই অশিক্ষিত (অইয়াহুদী)দের অধিকার হরণে আমাদের কোন পাপ নেই।’ বস্তুতঃ তারা জেনে-শুনে আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে।[১] [১] أُمِّيِيْنَ (নিরক্ষর-অশিক্ষিত) বলতে আরবের মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীরা দাবী করত যে, এরা যেহেতু মুশরিক তাই তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করা বৈধ, এতে কোন গুনাহ নেই। মহান আল্লাহ বললেন, এরা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলছে। অপরের সম্পদ আত্মসাৎ করার অনুমতি আল্লাহ কিভাবে দিতে পারেন? কোন কোন তফসীরের বর্ণনায় এসেছে যে, নবী করীম (সাঃ) এ কথা শুনে বললেন, "আল্লাহর শত্রুরা মিথ্যা বলেছে। কেবল আমানত ছাড়া জাহেলী যুগের সমস্ত জিনিস আমার পায়ের নীচে। আমানত সর্বাবস্থায় আদায় করতে হবে, তাতে তা কোন সৎ লোকের হোক বা অসৎ লোকের।" (ইবনে কাসীর-ফাতহুল ক্বাদীর) অনুতাপের বিষয় যে, ইয়াহুদীদের মত বর্তমানেও অনেক মুসলিম মুশরিকদের মাল আত্মসাৎ করার জন্য বলছে যে, 'দারুল হারব' (ইসলামের শত্রু কাফের দেশ)এ সূদ হালাল এবং শত্রুর মালের কোন হিফাযত নেই।
বিকল্পভাবে, নিচে প্রদত্ত স্মার্ট অনুসন্ধান বৈশিষ্ট্যটি ব্যবহার করুন