এটি আল্লাহর হেদায়েত। স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা, এপথে চালান। যদি তারা শেরেকী করত, তবে তাদের কাজ কর্ম তাদের জন্যে ব্যর্থ হয়ে যেত। আল-আনআম ৬:৮৮ ⧉
তাফসির:
৮৮ তার সম্প্রদায়ের দাম্ভিক প্রধানগণ বলল, ‘আমাদের ধর্মে তোমাদেরকে ধর্মান্তরিত হতেই হবে।[১] অন্যথা হে শুআইব! তোমাকে ও তোমার সাথে যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকে অবশ্যই আমাদের জনপদ হতে বহিষ্কৃত করব।’ সে বলল, ‘আমরা অনিচ্ছুক থাকা সত্ত্বেও কি?২ [১] ঐ প্রধানগণের দাম্ভিকতা ও আত্মগরিমার কথা আন্দাজ করুন যে, তারা শুধু তওহীদ ও ঈমানের দাওয়াতকে অস্বীকারই করেনি; বরং তার থেকেও সীমা অতিক্রম করে আল্লাহর নবী ও তাঁর উপর ঈমান আনয়নকারীদেরকে হুমকি দিয়ে বলেছিল যে, 'তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্মে ফিরে এস, নচেৎ আমরা তোমাদেরকে এখান থেকে তাড়িয়ে দেব।' ঈমানদারদের পূর্ব ধর্মে ফিরে আসার কথা বুঝে আসার মত। কারণ তারা কুফরী ছেড়ে ঈমান গ্রহণ করেছিল। কিন্তু শুআইব (আঃ)-কেও পূর্ব-পুরুষদের ধর্মে ফিরে আসার দাওয়াত হয়তো এই কারণে যে, তারা তাঁকেও নবুঅত-প্রাপ্তি এবং দাওয়াত ও তবলীগের আগে নিজেদের ধর্মাবলম্বী মনে করত, যদিও সত্য এর বিপরীত। অথবা সংখ্যাধিক্যের দিকে লক্ষ্য করে তাঁকেও নিজেদের মধ্যে শামিল করে নিয়েছে। (এখানে অনেকে ধর্মাদর্শে ফিরে আসার অনুবাদ করেছেন। কিন্তু নবীগণ আদৌ কুফরী ধর্মাদর্শে ছিলেন না। অতএব ফিরে আসার অনুবাদ না করাই উত্তম।) (ফাতহুল ক্বাদীর) [২] এটি একটি ঊহ্য প্রশ্নের উত্তর। أ (প্রশ্ন) অস্বীকৃতিসূচক। আর و অবস্থা বর্ণনার জন্য। অর্থাৎ, তোমরা কি আমাদেরকে তোমাদের ধর্মে ফিরিয়ে দেবে কিংবা আমাদের নিজ গ্রাম হতে তাড়িয়ে দেবে, যদিও আমরা ঐ ধর্মে ফিরে যেতে বা এই গ্রাম হতে বেরিয়ে যেতে অপছন্দ করি? সার কথা তোমাদের জন্য উচিত নয় যে, তোমরা আমাদেরকে এর মধ্যে কোন একটি করতে বাধ্য করবে।